যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শুল্ক বিরোধে সাময়িক বিরতির কারণে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে এ খাতে বেড়েছে জ্বালানির চাহিদা। এমন প্রেক্ষাপটে এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো সামান্য বেড়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় জুলাইয়ের সরবরাহ চুক্তিতে চলতি সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১১ ডলার ৭৫ সেন্ট। আগের সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১১ ডলার ৫০ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছে।
জ্বালানি কোম্পানি ড্যাভেনপোর্ট এনার্জি পার্টনার্সের চেয়ারম্যান টবি কপসন বলেন, ‘বাজারে এলএনজি ক্রয়-বিক্রয় আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও ব্যবসায়ী জুনে সরবরাহ চুক্তির ভিত্তিতে কার্গো কিনছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকট নেই। তবে দাম কমে আসায় কিছু ক্রেতা তাদের চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ পূরণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি ক্রেতা দেশ চীন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে বিরোধিতার কারণে সম্প্রতি দেশটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানীকৃত এলএনজি কার্গো ইউরোপে বিক্রি করে দিচ্ছে।
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যকার এ বিরতি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুনরায় চালু করতে সহায়তা করতে পারে। চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হলে চীনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা পুনরায় বাড়তে পারে। আর্গাসের হেড অব এলএনজি প্রাইসিং মার্টিন সিনিয়র বলেন, ‘এ শুল্ক বিরতি এলএনজির বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। কারণ চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক এখনো কার্যকর। তবে বর্তমান পরিস্থিতি শিল্প খাতে চাহিদার প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।’
ডাটা অ্যানালিটিকস সংস্থা কেপলারের এলএনজি ও গ্যাস বিশ্লেষক গো কাটায়ামা বলেন, ‘এশিয়ার দেশগুলোয় এলএনজির দাম আরো বাড়তে পারে। থাইল্যান্ডে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা মূল্যবৃদ্ধির পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।’
এদিকে ডাচ টিটিএফ হাবে প্রতি মেগাওয়াট প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ৩৪-৩৫ ইউরোর মধ্যে স্থিতিশীল আছে। কাটায়ামা জানান, পর্যাপ্ত সরবরাহ ও চাহিদা কম থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে জেপিকেএম (এশিয়ায় স্পট মার্কেটে সরবরাহকৃত এলএনজির দামের একটি প্রধান মানদণ্ড) ও টিটিএফের মধ্যে পার্থক্য কম থাকায় এশিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস গত বৃহস্পতিবার জুনের সরবরাহ চুক্তিতে নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) বাজার আদর্শে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম স্থির করেছে প্রায় ১১ ডলারে। একই মাসের সরবরাহ চুক্তিতে টিটিএফে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজিতে ৬৩ সেন্ট ছাড় দেয়া হয়েছে।
আরগাস প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৮৫ সেন্ট। অন্যদিকে স্পার্ক কমোডিটিজ জুনের সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১০ ডলার ৯৫ সেন্ট।
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেপ অব গুড হোপ হয়ে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় এলএনজি সরবরাহের পথটি চলতি সপ্তাহে ইউরোপের তুলনায় কিছুটা লাভজনক হয়ে উঠেছে।’
তিনি জানান, জানুয়ারির পর আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজি পরিবহন ব্যয় চলতি সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি কমে এসেছে। শুক্রবার তা দৈনিক ৩২ হাজার ৫০০ ডলারে নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে এলএনজি পরিবহন ব্যয় দৈনিক ২২ হাজার ২৫০ ডলারে স্থিতিশীল আছে।